ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

‘কেমন পুলিশ চাই’ জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ

  • আপলোড সময় : ০৪-১২-২০২৪ ১২:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-১২-২০২৪ ১২:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন
‘কেমন পুলিশ চাই’ জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ
পুলিশ সংস্কার কমিশনের পরিচালনায় ‘কেমন পুলিশ চাই’ শীর্ষক জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। জনমত জরিপের ফলাফল পুলিশ সংস্কার কমিশনের ওয়েবসাইটে (িি.িঢ়ৎপ.সযধঢ়ংফ.মড়া.নফ) পাওয়া যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য-সচিব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ফয়সল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনকে প্রতিহত করতে কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যের সহিংস ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘পুলিশ সংস্কার’ এখন সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের লক্ষ্যে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। যার কার্যক্রম চলমান। পুলিশ সংস্কার কমিশন সর্বসাধারণের মূল্যবান মতামত জানতে ‘কেমন পুলিশ চাই’ শিরোনামে জনমত জরিপ পরিচালনা করে। জনমত জরিপে পুলিশকে জবাবদিহির আওতায় এবং বিভিন্ন প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে একটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা কমিশনের কথা জানিয়েছে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন সংগঠনের মাধ্যমে তদন্তের কথা জানিয়েছেন ৬০ শতাংশ মানুষ। অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। এই সেবা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন ২২ শতাংশের বেশি মানুষ। এ ছাড়া জরুরি সেবা ৯৯৯ এর সেবায় সন্তুষ্ট নন ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ। তবে সন্তুষ্টি পাওয়া গেছে ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের মধ্যে। জরিপের ফলে দেখা গেছে, পুলিশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিপরীতে ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা একটি স্বাধীন সংগঠনের মাধ্যমে তদন্তের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কোনো সংগঠন নেই। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ এর ১৮ নম্বর ধারায় পুলিশ তথা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তদন্তে কমিশনকে নিবৃত্ত রাখা হয়েছে। জরিপে বাকি ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা সমান দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছেন। এক অংশ মনে করেন, হাইকোর্ট বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত একটি স্থায়ী তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে পুলিশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করা যেতে পারে। আরেক অংশ মানবাধিকার কমিশনকেই আইন সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতার্পণের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। জরিপে আরও দেখা গেছে, পুলিশকে জবাবদিহি ও বিভিন্ন প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে একটি নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা বা কমিশনের পক্ষে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা মত দিয়েছেন। অন্যদিকে সাংবিধানিক কাঠামোর আওতায় পুলিশের জন্য স্বাধীন ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠার পক্ষে ৪১ দশমিক ১ শতাংশ মতামত দিয়েছেন।
পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অবসান চান ৮৯ শতাংশ মানুষ: পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অবসান চান ৮৯.৫ শতাংশ এবং ভুয়া ও গায়েবি মামলার অবসান চান ৯৫ শতাংশ মানুষ। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের মধ্যে সর্বাধিক মতামত এসেছে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ চাওয়ার ক্ষেত্রে। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে নিরপেক্ষ পুলিশ ও তৃতীয় অবস্থানে দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ চাই- এমন ক্যাটাগরিতে মতামত এসেছে। জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অবসান চান ৮৯.৫ শতাংশ উত্তরদাতা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ চান ৭৭.৯ শতাংশ উত্তরদাতা। এছাড়া গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত মানবাধিকার চরম মানবিকতার লঙ্ঘন বিবেচনায় অপরাধী পুলিশকে শাস্তির আওতায় আনার পক্ষে ৭৪.৯ শতাংশ উত্তরদাতা। এছাড়া ভুয়া ও গায়েবি মামলার অবসান চান ৯৫ শতাংশ উত্তরদাতা।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে অসন্তুষ্ট ৪৪.৯ শতাংশ মানুষ: অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৪৪.৯ শতাংশ মানুষ এবং এ সেবা সম্পর্কে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন ২২ শতাংশের বেশি মানুষ। এছাড়া সাইবার বুলিং ও সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত ভুক্তভোগী মেয়েদের প্রতিকারে অসন্তোষ রয়েছে ৭২.১ শতাংশ উত্তরদাতার। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে সন্তুষ্ট নয় ৪৪.৯ শতাংশ মানুষ এবং এ সেবা সম্পর্কে অবগত নয় ২২ শতাংশের বেশি মানুষ। জরুরি সেবা ৯৯৯ এর সেবায় সন্তুষ্ট নয় ৩২.৪ শতাংশ মানুষ তবে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৫৬.৬ শতাংশ মানুষ। ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবায় সন্তুষ্ট নয় ৪২ শতাংশ মানুষ। বিট পুলিশিং কার্যক্রমে সন্তুষ্ট নয় ৪৫ শতাংশের বেশি মানুষ। এছাড়া থানায় অনলাইনে জিডি সেবা ক্ষেত্রে সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছেন ৪৪.৯ শতাংশ মানুষ। এদিকে নারী, শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ডেস্ক সংক্রান্ত কার্যক্রমটির বিষয়ে অসন্তষ্টি বেশি। সাইবার বুলিং ও সাইবার ক্রাইম সংক্রান্তে ভুক্তভোগী মেয়েদের প্রতিকারের জন্য এটি অনলাইন ব্যবস্থা। তবে কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। ৭২.১ শতাংশ উত্তরদাতা সন্তোষজনক নয় বা অবগত নয় জানিয়েছেন। এছাড়া ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন সেবা কার্যক্রমটিও সন্তোষজনক নয় বলে মত অধিকাংশের।
৫৪ ধারাকে অপব্যবহারযোগ্য মনে করেন ৮২.৫ শতাংশ মানুষ: ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার বিধানকে সহজে অপব্যবহারযোগ্য আইনের বিধান মনে করেন শতকরা ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ? এই ধারাটি যুগোপযোগী সংস্কার চান ৪৬.২ শতাংশ মানুষ? একই সঙ্গে পুলিশ হেফাজতে বা রিমান্ডে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের ধারাটি সংশোধন/সংস্কার চান ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধরা বিধানকে সহজে অপব্যবহারযোগ্য আইনের বিধান মনে করেন শতকরা ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ। এরমধ্যে ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ ধারাটি যুগোপযোগী সংস্কার চান। ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত ৫৪ ধারায় বিধান যুগোপযোগী করার অর্থ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে বিজ্ঞানসম্মত জীবনযাত্রার সুফলযুক্ত ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে ৩৯.৭ শতাংশ উচ্চ আদালতের সুপারিশ মতে ৫৪ ধারায় বিধান সংশোধনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এতে আরও দেখা গেছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারায় পুলিশ হেফাজতে বা রিমান্ডে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের ধারাটি সংশোধন/সংস্কার চান ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা। এর মধ্যে ৮০ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা নারী আসামিকে যথেষ্ট শালীনতার সঙ্গে নারী পুলিশের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতি থানায় স্বচ্ছ কাঁচের ঘেরাটোপ ব্যবস্থা সম্বলিত আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার পক্ষে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৮০ দশমিক ২ শতাংশ মতামত এসেছে। এছাড়া তল্লাশির সময় পরিচয় দিতে অস্বীকার করলে বা বিনা সার্চ ওয়ারেন্ট তল্লাশি করতে চাইলে তার প্রতিকারে একটি কার্যকর কল সার্ভিস চালুর পক্ষে সর্বাধিক ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতা মত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে আরও দুটি বিষয়ে তারা ব্যবস্থা চান (১) অভিযানের সময় জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম ও ভিডিও রেকর্ডিং ডিভাইসসহ পোশাক পরিধানের ওপর জোর দিয়েছেন (৭৭.৪ শতাংশ) (২) রাতের বেলায় গৃহ তল্লাশি করার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি বা গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতি অপরিহার্য চায় ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা। জনমত জরিপে প্রাপ্ত মতামত অন্তর্ভুক্ত করে প্রবিধানমালা জারির ব্যবস্থা সুপারিশ করা যায়।
গায়েবি মামলার অপসংস্কৃতির সংস্কার চান ৯৫ শতাংশ মানুষ: ভুয়া বা গায়েবি মামলার অপসংস্কৃতির সংস্কার চান ৯৫ শতাংশ মানুষ। পুলিশ সংস্কার কমিশনের ‘কেমন পুলিশ চাই’ শীর্ষক জরিপে এমন মতামত জানিয়েছেন তারা। জরিপে প্রশ্ন রাখা হয়, বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের আমলে পুলিশ কর্তৃক গায়েবি/ভুয়া মামলা দিয়ে বিরোধী দলমত দমন করে আইনের অপব্যবহারের অপসংস্কৃতি চালু হয়েছে। আইনের অপব্যবহার রোধকল্পে আপনি কি মামলা রুজুর ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৯৯৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারাটির সংস্কার চান? এতে ২৩ হাজার ২১৬ জন বা ৯৫ শতাংশ উত্তরদাতা ‘হ্যাঁ’ জবাব দেন। ‘না’ জবাব দেন ১ হাজার ২২৬ জন বা ৫ শতাংশ মানুষ। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ চান ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। নিরপেক্ষ পুলিশ চান ৮৬ শতাংশ মানুষ। দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ চান ৮৪ শতাংশ মানুষ। পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অবসান চান ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ চায় ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে চরম মানবিকতার লঙ্ঘন বিবেচনায় অপরাধী পুলিশকে জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনার পক্ষে মত দিয়েছে ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা। জরিপে অংশ নেওয়া ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ সালের ৫৪ ধারায় পুলিশকে প্রদত্ত বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তারের ক্ষমতাকে সহজে অপব্যবহারযোগ্য আইনের বিধান মনে করেন। এজন্য ধারাটির যুগোপযোগী সংস্কার চান ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ । ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত ৫৪ ধারায় বিধান যুগোপযোগী করার অর্থ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে বিজ্ঞানসম্মত জীবনমাত্রার সুফলযুক্ত ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে ৩৯.৭ শতাংশ উচ্চ আদালতের সুপারিশমতে ৫৪ ধারায় বিধান সংশোধনের পক্ষে মত দিয়েছেন। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, বিক্ষোভ মিছিল মোকাবিলা ও বিরোধী দলমত দমনে মাত্রারিক্ত বল প্রয়োগ করে মানবাধিকার লঙ্ঘন ফৌজদারি অপরাধ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের শাস্তি চান ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ। ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিস্থাপিত প্রমিত পদ্ধতি অনুসরণকে প্রবিধানভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাছাড়া মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত পুলিশ সদস্যকে উৎসাহিত করতে বার্ষিক কর্মমূল্যায়নে পুরস্কার ও তিরস্কারের ব্যবস্থা রাখার পক্ষে ৬৮ দশমিক ২৭ শতাংশ সমর্থন করেছেন। জরিপের এই প্রশ্নে মতামত অংশে বলা হয়েছে, যেহেতু মানবাধিকার বিষয়টি বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি স্পর্শকাতক ও সহানুভূতিপ্রবণ বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত অপরাধের শাস্তি সাধারণ নাগরিকের চেয়ে ইউনিফর্মধারী পুলিশ বাহিনীর জন্য দ্বিগুণ নির্ধারণ করে আইনভুক্ত করার জন্য জোর সুপারিশ করা যায়। জরিপে দেখা গেছে, সভাসমাবেশ আয়োজনে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনের পূর্বানুমতি গ্রহণকে মৌলিক অধিকার পরিপন্থি মনে করেন ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা। অন্যদিকে প্রত্যয়টির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত নন ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ১০ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে অনিশ্চিত বা দ্বিধান্বিত। একটি বিষয় স্পষ্ট যে সংবিধানের ৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদে সভাসমাবেশ আয়োজন মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন আইন ১৯৭৬ এর ২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী পুলিশ কমিশনারকে অনুরুপ সমাবেশ জনস্বার্থে সর্ব্বোচ্চ ৩০ দিন স্থগিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আয়োজনে পূর্বানুমতি গ্রহনের বিষয়টি সেখানে উল্লেখ নেই। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিকাশে ৭১ দশমিক ২ ভাগ উত্তরদাতা বিধানটির পরিবর্তন চান। বিষয়টি বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা যায় বলে মতামত অংশে বলা হয়েছে।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের এ জরিপে অংশ নিয়েছেন ২৪ হাজার ৪৪২ জন। এদের মধ্যে ১৮ থেকে ৪৪ বছরের ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের হার ৮৬.৬ শতাংশ। তবে উত্তরদাতাদের প্রায় ৯৫ শতাংশই পুরুষ। উত্তরদাতাদের মধ্যে চাকরিজীবী ৩৬.৪ শতাংশ, ছাত্র ২৭.২ শতাংশ, ব্যাবসায়ী ৭.৬ শতাংশ এবং ৭.১ শতাংশ উল্লেখযোগ্য। এসব উত্তরদাতাদের সর্বাধিক ঢাকা জেলা এবং পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য-সচিব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিককালে দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনকে প্রতিহত করতে কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যের সহিংস ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে ‘পুলিশ সংস্কার’ এখন সময়ের দাবি। সে লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের লক্ষ্যে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে যার কার্যক্রম চলমান। পুলিশ সংস্কার কমিশন সর্বসাধারণের মূল্যবান মতামত জানতে ‘কেমন পুলিশ চাই’ শিরোনামে জনমত জরিপ পরিচালনা করে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স